মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সামরিক ঘাঁটি কোনগুলো
· Prothom Alo

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র গতকাল শনিবার ইরানে হামলা চালিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে এক সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন স্থাপনাগুলো তুলে ধরা হলো।
বাহরাইন
মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তর অবস্থিত বাহরাইনে। পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর, আরব সাগর এবং ভারত মহাসাগরের কিছু অংশ এ ফ্লিটের দায়িত্বাধীন এলাকার অন্তর্ভুক্ত।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
কাতার
রাজধানী দোহার অদূরে মরুভূমিতে অবস্থিত ২৪ হেক্টরের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিটি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) ফরওয়ার্ড সদর দপ্তর। এখান থেকেই পশ্চিমে মিসর থেকে শুরু করে পূর্বে কাজাখস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযানগুলো পরিচালিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম এই মার্কিন ঘাঁটিতে প্রায় ১০ হাজার সৈন্য রয়েছে।
কুয়েত
এখানে বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন আর্মি সেন্ট্রালের ফরওয়ার্ড সদর দপ্তর ‘ক্যাম্প আরিফজান’ এবং ইরাক সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ‘আলী আল সালেম’ বিমানঘাঁটি। বিচ্ছিন্ন ও রুক্ষ পরিবেশের কারণে এটি ‘দ্য রক’ নামে পরিচিত। এ ছাড়া ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের সময় প্রতিষ্ঠিত ‘ক্যাম্প বুহেরিং’ বর্তমানে ইরাক ও সিরিয়ায় মোতায়েন হওয়া মার্কিন সেনা ইউনিটগুলোর একটি ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাত
রাজধানী আবুধাবির দক্ষিণে অবস্থিত আল দাফরা বিমানঘাঁটিটি আমিরাত বিমানবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে ব্যবহৃত হয়। মার্কিন বিমানবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, যা ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে অভিযান এবং এই অঞ্চলে গোয়েন্দা নজরদারিতে সহায়তা করে থাকে। এ ছাড়া দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দর কোনো প্রথাগত সামরিক ঘাঁটি না হলেও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে বড় বিরতিস্থল, যেখানে নিয়মিত মার্কিন বিমানবাহী রণতরি নোঙর করে।
ইরাক
হোয়াইট হাউসের তথ্যমতে, পশ্চিম আনবার প্রদেশের আইন আল-আসাদ বিমানঘাঁটিতে মার্কিন উপস্থিতি রয়েছে, যারা ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তা ও ন্যাটোর মিশনে অবদান রাখছে। ২০২০ সালে জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরান এই ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। এ ছাড়া উত্তর ইরাকের আধা স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের এরবিল বিমানঘাঁটিটি মার্কিন ও যৌথ বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও মহড়ার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
সৌদি আরব
২০২৪ সালে হোয়াইট হাউসের এক চিঠির তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে ২ হাজার ৩২১ জন মার্কিন সৈন্য রয়েছে। তারা সৌদি সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা এবং মার্কিন সামরিক বিমানের কার্যক্রমে সহায়তা দেয়। রিয়াদের প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে কিছু সৈন্য মোতায়েন রয়েছে, যারা প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারি এবং থাড প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মতো সরঞ্জাম পরিচালনা করে।
জর্ডান
রাজধানী আম্মানের ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে আজরাকে অবস্থিত মুয়াফফাক আল সালতি বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বিমানবাহিনীর ৩৩২তম
এয়ার এক্সপেডিশনারি উইং অবস্থান করে। লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘাঁটি লেভান্ট অঞ্চলে (সিরিয়া, লেবানন ও আশপাশের এলাকা) বিভিন্ন মিশনে অংশ নেয়।