চট্টগ্রামে র‌্যাব কর্মকর্তাকে পিটিয়ে খুনের মামলায় আরও তিন আসামি গ্রেপ্তার

· Prothom Alo

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাবের এক কর্মকর্তাকে পিটিয়ে খুনের মামলায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন সাইদুল ইসলাম, মো. পারভেজ ও মো. বেলাল। গতকাল শুক্রবার রাতে নোয়াখালীর কবিরহাট, চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ও বায়েজিদ বোস্তামি এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তবে মামলার প্রধান আসামি ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান ইয়াসিনকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি।

Visit esporist.com for more information.

র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এআরএম মোজাফফর হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে খবর পেয়ে র‌্যাব কর্মকর্তা খুনের মামলায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত এ মামলায় মোট ২০ আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে র‌্যাব ১৩ জনকে এবং জেলা পুলিশ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে গত ১৯ জানুয়ারি অভিযান পরিচালনার সময় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক-ডিএডি (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। হামলায় একই সময়ে তিন র‍্যাব সদস্য আহত হন। র‍্যাব কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনায় ২২ জানুয়ারি সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা হয়। এতে মোহাম্মদ ইয়াসিনকে প্রধান আসামি করে ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় ১৫০ থেকে ২০০ জনকে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, র‍্যাব সদস্যরা আসামি ধরতে গেলে তাঁদের ওপর সন্ত্রাসী মোহাম্মদ ইয়াসিনের নির্দেশে রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। ছিনিয়ে নেওয়া হয় র‍্যাবের আটক করা এক আসামিকে। চার র‍্যাব সদস্যকেও অপহরণ করে নিয়ে যান আসামিরা। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে।

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থেকে দুই কিলোমিটার পশ্চিমে এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটি। এর বিপরীতে লিংক রোডের উত্তর পাশে ৩ হাজার ১০০ একর জায়গায় জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান। সীতাকুণ্ডে অবস্থান হলেও এটি অনেকটা নগরের ভেতরেই। এর পূর্ব দিকে রয়েছে হাটহাজারী উপজেলা এবং দক্ষিণে বায়েজিদ থানা।

পুলিশ ও জঙ্গল সলিমপুরের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দুটি সন্ত্রাসী পক্ষ রয়েছে। একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং অপর পক্ষে রোকন উদ্দিন। ইয়াসিন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সীতাকুণ্ডের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতা এস এম আল মামুনের অনুসারী ছিলেন। রোকন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক (বহিষ্কৃত)। র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত হওয়া এবং হামলার পেছনে সন্ত্রাসীদের এই দুটি পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বের বিষয় উঠে আসছে। বাসিন্দারা জানান, একটি পক্ষ র‍্যাবকে ভুল তথ্য দিয়ে আরেক পক্ষকে ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। র‍্যাবের তথ্যদাতাকে (সোর্স) এলাকায় দেখেই একটি পক্ষ ইট ছুড়তে থাকে এবং লাঠি নিয়ে হামলা চালায়।

৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবির ৩ হাজার ২০০ সদস্য যৌথ অভিযান চালিয়ে জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে সেখানে দুটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। এখন পর্যন্ত জঙ্গল সলিমপুর প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Read at source