ইতালির ফুটবলপ্রধানের পদত্যাগ, স্টেডিয়াম নিয়ে উয়েফা দিল হুঁশিয়ারি
· Prothom Alo

টানা তৃতীয়বার ইতালি বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থ হওয়ার দুই দিন পর পদত্যাগ করলেন ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা। পদত্যাগের চাপের মধ্যে শুরুতে ‘না’ করে দিলেও বৃহস্পতিবার তিনি সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
Visit umafrika.club for more information.
২০১৮ সালে গ্রাভিনা দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা করতে পারেনি ইতালি। তার আগের সভাপতি পদত্যাগ করেছিলেন ২০১৮ বিশ্বকাপে জায়গা করতে না পারার জেরে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা মঙ্গলবার রাতে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে এবারের আসরে উঠতে ব্যর্থ হয়।
এদিকে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফার সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন আজ ইতালিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দেশটির স্টেডিয়ামগুলো উন্নত না করলে ২০৩২ ইউরো আয়োজক হওয়ার সুযোগ হারাতে পারে। তিনি এসব স্টেডিয়ামকে ‘ইউরোপের অন্যতম বাজে’ বলে অভিহিত করেছেন।
ইউরোপীয় প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়ার কাছে হারের পর ইতালির ফুটবল-কর্তারা দেশের অভ্যন্তরে তীব্র চাপে পড়েন। রোমে এফআইজিসি ভবনের সামনে বিক্ষুব্ধ সমর্থকেরা ডিম ছুড়ে তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি এফআইজিসি–প্রধান গ্রাভিনার পদত্যাগ দাবি করে বিবৃতিতে বলেন, ‘ইতালিয়ান ফুটবলকে একদম গোড়া থেকে নতুন করে গড়তে হবে। আর সেই সংস্কার শুরু হতে হবে ফেডারেশনের শীর্ষ পর্যায় থেকে।’ তবে তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন গ্রাভিনা।
চব্বিশ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই সিদ্ধান্ত বদলেছেন তিনি। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রোমে এফআইজিসির প্রধান কার্যালয়ে এক বৈঠকের পর পদত্যাগের কথা সিদ্ধান্ত জানান গ্রাভিনা।
ফেডারেশনের বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ২২ জুন নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
‘নরকবাসে’ ইতালি: নীল উৎসবের দেশে মাতমএদিকে বৃহস্পতিবার ‘গ্যাজেত্তা দেলো স্পোর্ত’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উয়েফা সভাপতি বলেন, ‘২০৩২ ইউরো যেভাবে নির্ধারণ করা আছে, সেভাবেই হবে। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আমি শুধু আশা করি যে (ইতালির) অবকাঠামো প্রস্তুত থাকবে। যদি তা না হয়, তবে টুর্নামেন্টটি ইতালিতে অনুষ্ঠিত হবে না। ইতালির রাজনীতিবিদদের হয়তো নিজেদের জিজ্ঞাসা করা উচিত, কেন ফুটবল অবকাঠামো ইউরোপের মধ্যে অন্যতম নিকৃষ্ট পর্যায়ে রয়েছে।’
সেফেরিনের মতে, ইতালিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ‘ফুটবল কর্তৃপক্ষ এবং রাজনীতির মধ্যকার সম্পর্ক’।
২০৩২ সালে তুরস্ক ও ইতালির যৌথভাবে ইউরো আয়োজন করার কথা। আগামী অক্টোবরে ইতালিকে ম্যাচ আয়োজনের জন্য পাঁচটি স্টেডিয়ামের নাম ঘোষণা করতে হবে। বর্তমানে ১১টি শহর ইউরো আয়োজনে আগ্রহী। তবে এর মধ্যে একমাত্র জুভেন্টাস অ্যালিয়াঞ্জ স্টেডিয়ামটি টুর্নামেন্টের ম্যাচ আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছে।
দেখে নিন ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের চূড়ান্ত সূচি