‘যত বড় হচ্ছি, ততই বুঝছি—রেড ফ্ল্যাগ মানেই রেড ফ্ল্যাগ’

· Prothom Alo

হলিউড তারকা জেনডায়া সম্পর্কের ‘রেড ফ্ল্যাগ’ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। বর্তমানে তিনি নতুন সিনেমা দ্য ড্রামার প্রচারণায় ব্যস্ত। ছবিতে তাঁর সহ-অভিনেতা রবার্ট প্যাটিনসন। গল্পে তাঁরা এক বাগ্‌দত্ত জুটি, যাঁদের বিয়ের প্রস্তুতির মধ্যেই নানা টানাপোড়েন তৈরি হয়। বাস্তব জীবনেও টম হল্যান্ডের সঙ্গে তাঁর বাগ্‌দানের গুঞ্জনের মধ্যে এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় এসেছে।

‘রেড ফ্ল্যাগ মানেই রেড ফ্ল্যাগ’
ইন্টারভিউ সাময়িকীতে দেওয়া এক আলাপচারিতায় জেনডায়া বলেন, ‘আমি যত বড় হচ্ছি, ততই বুঝছি—রেড ফ্ল্যাগ মানেই রেড ফ্ল্যাগ। বিষয়টা এড়িয়ে যাওয়ার কিছু নেই।’
আলাপের শুরুতে জেনডায়া প্যাটিনসনকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, সম্পর্কে তিনি কোন ‘রেড ফ্ল্যাগ’কে আকর্ষণীয় মনে করেন?পরে নিজের মতো জানাতে গিয়ে জেনডায়া বলেন, কাজের জায়গায় একটি বিষয় তাঁকে খুব দ্রুত মানুষ চেনাতে সাহায্য করে—কেউ শুটিং সেটে ক্রুদের সঙ্গে কেমন আচরণ করেন।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

‘আমি এমন মানুষকে শ্রদ্ধা করি, যারা শুধু অভিনেতা-পরিচালক-প্রযোজকদের সঙ্গেই নয়, সবার সঙ্গে ভদ্র ও সদয় আচরণ করেন। ক্যামেরা বন্ধ থাকলে একজন মানুষ কেমন—ক্রুরা সেটাই সবচেয়ে ভালো জানেন,’ বলেন জেনডায়া। অর্থাৎ তাঁর কাছে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ মানে শুধু রোমান্টিক আচরণ নয়, বরং দৈনন্দিন ব্যবহারে যে অমার্জিত বা অসম্মানজনক আচরণ ধরা পড়ে, সেটিই বড় সতর্কবার্তা।

জেনডায়া। এএফপি

কুকুরকে ‘ভুল’ চোখে দেখলেও সমস্যা!
আলাপের এক পর্যায়ে প্যাটিনসন মজা করে জিজ্ঞেস করেন, ‘কেউ যদি তোমার কুকুরের দিকে অদ্ভুতভাবে তাকায়, সেটাও কি রেড ফ্ল্যাগ?’ হাসতে হাসতেই জেনডায়া জবাব দেন, ‘আমার কুকুরের জন্য আমি মারামারিতেও জড়িয়ে যেতে পারি!’ এই হালকা মুহূর্তে তাঁর ব্যক্তিত্বের আরেকটি দিকও স্পষ্ট হয়—যাঁদের তিনি ভালোবাসেন, তাঁদের তিনি সুরক্ষিত রাখতে চান।

মানুষ জটিল, তবু সীমা আছে
প্রথম দেখা বা দীর্ঘদিন ধরে কাউকে জানার প্রসঙ্গেও কথা বলেন জেনডায়া। তাঁর মতে, ‘মানুষ বহুস্তরীয়, জটিল, তারা ভুল করে। সাংস্কৃতিক পার্থক্যও থাকে। কিন্তু কিছু বিষয় আছে, যেগুলো স্রেফ রূঢ়তা বা নিষ্ঠুরতা—সেগুলোকে আর ব্যাখ্যা দিয়ে ঢাকার সুযোগ নেই।’

জেনডায়া যোগ করেন, দীর্ঘদিন চেনা মানুষও বদলে যেতে পারে, আবার সময়ের সঙ্গে নতুন দিকও উন্মোচিত হতে পারে। কিন্তু মৌলিক সম্মানবোধের অভাব তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

আঙুলে আড়াই কোটি টাকা মূল্যের আংটি, জেনডায়া কি বাগ্‌দান সেরেছেন

টম হল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্কের রসায়ন
সম্প্রতি মিররকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেনডায়া স্পষ্ট করে বলেন, শুটিং সেটে টম হল্যান্ডের উপস্থিতি তাঁকে স্বস্তি দেয়। ‘সেটে তাঁর একধরনের শান্ত উপস্থিতি আছে, যা শুধু আমাকে নয়, তাঁর সঙ্গে কাজ করা সবার মধ্যেই স্বস্তি আনে,’ বলেন তিনি।
ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের ভারসাম্য নিয়েও কথা বলেন এই তারকা। লস অ্যাঞ্জেলেস ও লন্ডন—দুই শহরেই তাঁদের সময় কাটে। তবে জনজীবন ও ব্যক্তিজীবনের সীমারেখা রক্ষা করা তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

সিনেমার দৃশ্যে জেনডায়া ও টম হল্যান্ড। আইএমডিবি

‘আমরা কেউই নিজেদের লুকিয়ে রাখতে চাই না বা স্বাভাবিক জীবনযাপন বন্ধ করতে চাই না, যেমন বাইরে ডিনারে যাওয়া। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা আমাদের ব্যক্তিগত পরিসর রক্ষা করতে চাই। কিছু বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে—এটা মেনে নিতে হয়। তবে যেগুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণে, সেগুলো আমরা দৃঢ়ভাবে রক্ষা করি,’ বলেন জেনডায়া।

আসছে একগুচ্ছ কাজ
২০২৬ সাল জেনডায়ার জন্য ব্যস্ততম সময় হতে যাচ্ছে। এইচবিওতে এপ্রিলে আসছে ‘ইউফোরিয়া’র শেষ মৌসুম, একাধিক নতুন সিনেমা—সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে আছেন তিনি।

Read at source